আঘাতপ্রাপ্ত স্বাধীনতা: রাসেলের বেদনাময় গল্প

২১ মে, ২০২৫

আমার পরিচয় আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমার বাবা যৌবনে সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছেন। সারাজীবন বাবার কাছে এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য তাদের ত্যাগের গল্প শুনেছি। কিন্তু আমার বাবার মুক্তির গল্পের শেষাংশে থাকা আমি আজ আর স্বাধীনতার অর্থ খুঁজে পাইনা। স্বাধীন দেশে শুধুমাত্র রাজনৈতিক অধিকারের কথা বলতে গিয়ে আমার পা কেটে নেয়া হয়েছে। আমার বাবা যেদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, সেদেশে শুধুমাত্র বেঁচে থাকবার জন্য আমাকে লড়াই করতে হয়েছে। আমি আমার বাবার যুদ্ধ করে আনা দেশের বর্তমান চিত্র।

 

আমি রাসেল। আমার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলাতে। বাবা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা। চাকরি করতেন রেলওয়ের একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারি হিসেবে। তাই বাড়িতে তেমন থাকা হয়নি। বাবা মায়ের সাথে বাবার কর্মস্থল নীলফামারীর সৈয়দপুরে থাকতাম।

 

মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার ছিলো আমাদের। বাবার বেতন যে খুব বেশি ছিল, তা নয়। তবে গ্রামে স্থাবর সম্পদ ছিল। বেশ সুখী একটা পরিবার ছিলো আমাদের। সৈয়দপুরে অসাধারণ এক কৈশোর কেটেছিলো। বাবার সাথে শহরের ভেতরে ঘুরতাম। সবচেয়ে সুন্দর ছিলো এয়ারপোর্টের রাস্তাটা। কত স্মৃতি ছিলো ঐ শহর জুড়ে। বাবার সাথে রেলগাড়ি দেখতে যেতাম।

 

সৈয়দপুর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলওয়ে কারখানা ছিলো। এখনো যখন নিজেকে কিছু হারিয়ে ফেলতে দেখি চুপচাপ হয়ে যাই। শুয়ে শুয়ে ছোট্টবেলার সেই স্মৃতিগুলো হাতড়ে দেখার চেষ্টা করি। যেকোন স্বপ্নভঙ্গ হলেই আজো আমার প্রথমেই মনে পড়ে বাবার কথা। রেললাইনের পাশে বসে থাকা বাবা অথবা বিকালবেলায় একসাথে চিনিমসজিদ রোডে হেঁটে চলা বাবা, সারারাত রেলের কোয়ার্টারের সামনে বসে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনানো বাবা। আমার শৈশব-কৈশোর মানেই বাবা আর সৈয়দপুর।

 

ছোট বেলায় পানিতে ডুবে এক ভাই আর এক বোন মারা যাওয়ায় আমি হয়ে পড়ি বাবা-মায়ের যক্ষের ধন। এইচএসসির পরে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আমার ঠিকানা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ। প্রিয় সৈয়দপুর ছেড়ে আসার সময় চলে আসে। আর এখানেই শুরু হয় আমার জীবনের পরবর্তী গল্প।

 

রাজশাহী আমার দেখা সুন্দরতম শহর। পরিপাটি ছিমছাম এই শহরে আমার যাত্রা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে। সারা বাংলাদেশের সহস্র ছাত্রের পদভারে মুখরিত এই শহর যুগ যুগ ধরে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও অনেক বড়। এই শহর আর এই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মানুষের সাথে মিলেমিশে একাকার। আশেপাশের এলাকাগুলোতে শত শত মেস। হোস্টেলে বাইরের শহর থেকে ছেলেরা এসে থাকছে। পড়াশুনা করে চলে যাচ্ছে। বিরাট কর্মযজ্ঞ।

 

বিশাল এই ক্যাম্পাসে এসেই আমি নতুন এক পরিবেশ দেখতে পাই। আমার কলেজ জীবনের সাথে এই জীবনের কোন মিল ছিলো না। পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আবহ ছিলো ক্যাম্পাস জুড়ে। ছিলো রাজনৈতিক ডামাডোল।

 

ভার্সিটিতে এসেই পরিচিত এক বড় ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে হলে উঠে যাই। কিন্তু কিছুদিন যেতেই ছাত্রলীগের পরিচয়ে হলে ওঠা আমি বিরক্ত হয়ে উঠি। হলগুলি তখন মাদকের আখড়া। ক্যাম্পাসের প্রানোচ্ছ্বল পরিবেশের সাথে হলগুলির পরিবেশের কোন মিল ছিলো না। বাংলাদেশের প্রায় বিশ্ববিদ্যালয়েই তখন এই পরিস্থিতি। আমি এ বিষয়ে আগে কখনোই জানতাম না। মনে মনে একটা বিতৃষ্ণা তৈরী হয়। আমার বাবা সারাজীবন আমাদের সুন্দর জীবন যাপনের পথ দেখিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সেই সুন্দর জীবনের কোন চিহ্ন আমি পেলাম না।

 

আমার জীবনে পরিবর্তনের শুরু এখান থেকে। আমার কিছু বন্ধু তখন ছাত্রশিবির করতো। তাদের সাথে চলাফেরা করতে গিয়ে আমি শিবিরের প্রতি আকৃষ্ট হই। ভার্সিটির কুৎসিত পরিবেশের প্রতি আমি বিরক্ত ছিলাম। তবে রাজনৈতিক কারনে শিবিরের ছেলেরা হলে থাকতে পারতো না। একদিন আমার এমন এক বন্ধুকে ছাত্রলীগের ছেলেরা ধরে ফেলে। সারা রাত ধরে তার উপর নির্যাতন চলে, এবং হলে তার সিট পেতে কে সাহায্য করছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ততদিনে আমিও শিবিরের অনেক ছেলেকেই সীটের ব্যাপারে সাহায্য করেছিলাম। এই ঘটনায় আমি হল ছেড়ে চলে আসি। এর পরে ধীরে ধীরে আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় হই।

 

২০১৪ সাল, ১৬ই জুন, সোমবার৷ আগের দিন আমার সংগঠন থেকে আমাকে অবগত করা হয় যে ওইদিন মঞ্জুর ভাই ও হাসিব ভাই নামে দুই জনের পরীক্ষা আছে, এবং এই পরীক্ষা না দিতে পারলে তাদের ছাত্রত্ব থাকবে না। তারা আগামি দিন পরীক্ষা দিবেন এবং আমি যেন তাদের সাথে থাকি।

 

সময় মত মঞ্জুর ভাই এবং হাসিব ভাই পরীক্ষার হলে চলে যান। আমি বাইরে অপেক্ষা করছিলাম। তাদের পরীক্ষা ছিলো আরবি বিভাগে। পরীক্ষা শুরু হবার কিছুক্ষন পরেই আমি ছাত্রলীগের প্রায় ত্রিশজনকে অস্ত্রসহ আরবি ডিপার্টমেন্টের গেট দিয়ে ঢুকতে দেখি। পরিস্থিতি আচ করে আমি ওনাদের দুইজনকে সংবাদ দিতে যাই, আজ পরীক্ষা দেয়া যাবে না। আপনাদেরকে দ্রুত বের হতে হবে।

 

ততক্ষনে ছাত্রলীগ ভবনের গেট বন্ধ করে দেয়। আমি তখন ভিতরে ওনাদের সাথে আটকা পড়ে যাই। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে হাসিব ভাই ও মঞ্জুর ভাইকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। আমাকে পুলিশ কিছু না বলায় আমিও চুপ চাপ থাকি। গেটের বাইরে পুলিশের আরেকটা গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কিন্তু তখনও আমি বুঝতে পারি নি আমাকে নিয়ে ওরা কি জঘন্য চক্রান্ত করে রেখেছে!

 

বেলা তিনটার দিকে প্রায় ২৫-৩০ জন ছেলে আমাকে ঘিরে ফেলে এবং টানতে টানতে একটা রুমের ভিতরে নিয়ে যায়। তাদের হাতে বন্দুক, চাপাতি, হকিস্টিকসহ আমার নাম না জানা বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র। তারা এক ঘন্টা ধরে আমাকে আটকে রেখে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় সেক্রেটারি তৌহিদ আল হোসেন তুহিন ছিলো সেখানে। বেলা চারটার দিকে আমি তাকে বলি, তোমাদের কারো তো আমি কোন ক্ষতি করি নি। আমাকে যেতে দাও। এই বলে পিছন ফিরে পা বাড়াতেই রিনেট নামে এক ছেলে আমাকে পিঠে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। কি হলো বুঝার জন্য ঘুরে দেখা মাত্রই অন্য কেউ আমার হাতে আরেকটা চাপাতি দিয়ে আঘাত করে। আমার হাত কব্জি থেকে কেটে চামড়ার সাথে ঝুলতে থাকে।

 

আমি ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হওয়ারও সময় পাই নি। ফয়সাল আহমেদ রুনু (সিএসই-১০) নামে এক ছেলে আমার দুই পায়ে গুলি করে। আমি চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যাই। আমাকে এই অবস্থায় ফেলে তারা সবাই চলে যাচ্ছিল। কিন্তু গোলাম কিবরিয়া নামে ছাত্রলীগের আরেক কর্মী ফিরে এসে চাপাতি নিয়ে আমার পায়ে কোপাতে থাকে। আমি আমার পায়ের অনুভূতি টের পাচ্ছিলাম না। কিন্তু ভয়ংকর কিছু হয়ে গেছে সেটা বুঝতে পারি নি।

 

কিছুক্ষন পর উঠে দাড়াতে গিয়ে দেখি আমার এক পা বিচ্ছিন হয়ে পড়ে আছে। উঠে দাড়াবার চেষ্টা বাদ দিয়ে মাটিতে পড়ে থাকি। কিছুক্ষণ আগেও যেই আমি সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ ছিলাম, মুহূর্তের মধ্যেই সেই আমি ছাত্রলীগের নৃশংসতায় একেবারে পঙ্গু হয়ে গেলাম। রক্তের ধারা বয়ে যাচ্ছিলো আমার শরীর দিয়ে।

 

এভাবে বেশ কিছুটা সময় নিজের রক্তের ভিতরে ডুবে ছিলাম। কিছুক্ষন পরে পুলিশ আসে। তখনকার মতিহার থানার ওসি আলমগীর আমাকে পুলিশ ভ্যানে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান। আমি শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. বি. কে. দাম আমার চিকিৎসা করতে অস্বীকৃতি জানায়। হায়রে মানুষ!

 

রক্তক্ষরন আটকাতে আমার পা বেধে রাখা হয়েছিল। পায়ে কোন অনুভূতি না থাকলেও কোমরে প্রচন্ড ব্যাথা করছিলো। প্রায় এক ঘন্টা ধরে যন্ত্রনায় চিৎকার চেচামেচির পর আমাকে অপারেশন করা হয়। আমি পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে থাকি। আমার সাথে কারো দেখা করার ব্যাপারেও বিধিনিষেধ ছিলো। এই অবস্থায় কাউকে গ্রেফতার করা হতে পারে আমার কল্পনাতেও ছিলো না।

 

আমার উপরে নৃশংস হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আমার মা মামলা করলেও সেই মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়। উল্টো পঙ্গু অবস্থায় হাসপাতালে থাকতেই আমাকে পুরাতন কিছু মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। প্রায় দুমাস পরে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে আমাকে ডিবি অফিসে নিয়ে সারাদিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আরো হয়রানি করে। জামিনে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জেলে থাকা কালেই চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা দিই আমি। অন্য সব বিষয়ে পাশ করলেও একটা বিষয়ে অকৃতকার্য হই।

 

কারাগারের ভিতরেও আমাকে নানা ভাবে যন্ত্রণা দেওয়া হয়। পা কেটে নেওয়ার পরেও আমাকে প্রথম বিশ দিন হুইল চেয়ার পর্যন্ত নেওয়ার অনুমতি দেয় নি। ফলে এক পায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আমাকে চলাফেরা করতে হয়। প্রায় পঞ্চাশ দিন কারাবাসের পর আমাকে মুক্তি দেওয়া হয় ঈদের আগের দিন বিকালে। আমার বাবা মা জেল গেটে আমার অপেক্ষায় ছিল৷ একমাত্র ছেলের এমন করুণ অবস্থা দেখে তারা কান্নায় ভেংগে পড়েন। সেই অবস্থাতেও জেল গেট থেকে আবারো ডিবি পুলিশ আমাকে তুলে নিয়ে যায়। রাত ১২ টার দিকে আমার পরিবারকে আরো অনেক হয়রানির পরে আমাকে ছেড়ে দেয়।

 

রাষ্ট্র যেমন আমার উপরে হওয়া এই নৃশংসতার কোন বিচার করে নি, ছাত্রলীগও তেমনি এই নির্যাতনকারীদের বিচার তো দূরের কথা, তাদেরকে আরো বড় দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করে। আমাকে হামলার সময় যেই গোলাম কিবরিয়া এবং ফয়সাল আহমেদ রুনু ছাত্রলীগের ছোট খাটো নেতা ছিলো, পরবর্তীতে এদেরকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি, সেক্রেটারির মতো বড় পদে আসীন করা হয়।

 

ছিন্ন করা পা নিয়ে আমি কিছু দিন রাজশাহী থেকে তারপর ঢাকায় চলে আসি উন্নত চিকিৎসার জন্য। নকল পা লাগিয়ে আমি পরের বছর বাকি এক বিষয়ের পরীক্ষা দিয়ে একাডেমিক জীবন শেষ করার চেষ্টা করি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, আমাকে পরীক্ষার হল থেকে আবারো গ্রেফতার করা হয়। এ বারে আমাকে আরও দুই মাস কারাগারে থাকতে হয়।

 

কারাবাস শেষে আমি যখন ক্যাম্পাসে ফিরি ততদিনে দুই বার পরীক্ষা দিতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার ছাত্রত্ব বাতিল করে দেয়। অনেক চেষ্টা করেও আমি আর পরীক্ষা দিতে পারি নি। পরবর্তীতে স্বপ্নের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশনের আশা বাদ দিয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে আমি একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ এবং এমবিএ শেষ করি।

 

এই সময়গুলোতে আমার বাড়ির অবস্থা ছিল আরও ভয়াবহ। আমার সৈয়দপুর বাড়িতে তেমন ঝামেলা হয়নি, তবে আমার গ্রামের বাড়িতে প্রায়ই পুলিশ যাওয়া আসা করত। প্রতিনিয়ত পুলিশি ঝামেলার কারনে আমি কখনো গাইবান্ধাতে গিয়ে থাকতে পারিনি।

 

আমার মুক্তিযোদ্ধা বাবা অসুস্থ হয়ে প্যারালাইজড হয়ে যান। শুধু কান্না ছাড়া আমার বাবা মায়ের আর কিছুই করার ছিল না। আমার বাবা আমাকে সাবধানে থাকতে সবসময় তাগাদা দিতেন। আমি তাকে বলেছিলাম, বাবা, আমায় বিশ্বাস কর। আমি তো কোন অন্যায় করি নি। আর যদি করি তার শাস্তি আমি পাবো আর আমার ভালো কাজের ফলাফল তুমিও পাবে। এরপর থেকে বাবা চুপ করে যান।

 

২০১৬ সালে আমি বিয়ে করি। আয় রোজগারের তাগাদা বাড়তে থাকে। মুরগীর ফার্ম, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, টুরিজম সেন্টার যেখানে সুযোগ পেয়েছি, কাজ করেছি!

 

২০১৯ সালে হঠাৎ বাবা ব্রেন স্ট্রোক করে মারা যান। এদিকে বিভিন্ন মামলায় আমার নামে ওয়ারেন্ট বের হতে থাকে। আমি আবারও দুই মাস জেলে থাকি। আমার শারিরীক অবস্থা তখন বেশ খারাপ। আমাদের একটা কন্যা সন্তানও হয়। এর মধ্যে আর মামলার চাপ নিতে পারছিলাম না। অবশেষে আমি ২০২২ সালে লন্ডনে চলে আসার সুযোগ পাই। বর্তমানে লন্ডনের এক ল-ফার্মে কর্মরত আছি।

 

তবে দেশের কথা খুব মনে পড়ে। প্রিয় দেশ থেকে কখনো আমি এভাবে চলে আসতে চাই নি। বাবার কথা মনে পড়ে। যে স্বাধীনতার গল্প নিয়ে এত বিরাট অহংকার ছিলো বাবার, সেই বাবাকে আমি স্বপ্নে দেখি প্রায় রাতেই। আমাকে জড়িয়ে ধরে তিনি কাঁদেন। আমি তাকে ধরতে পারি না।

 

রাসেল আলম

সাবেক শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সেশনঃ ২০১০-১১

ফুটনোট: রাসেলর উপরে নৃশংস নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা ও নির্যাতনের সময়ে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা ‘সোচ্চার’ এর পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়েছে এবং তখন কিছু মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছিলো। তবে নির্যাতনে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রাসেলের জবানবন্দী ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে যাচাই করা হয় নি এবং অভিযুক্তদের মন্তব্য নেওয়ার জন্য সোচ্চারের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।

 

সম্ভাব্য শাস্তি: বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০৭ ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমানিত হলে নির্যাতনে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ৩২৫ ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদন্ড ও জরিমানা হতে পারে। কর্তব্যে অবহেলা করে নির্যাতনে সহায়তার কারণে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১১৫, ১১৬ এবং ১১৯ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

নির্যাতনকারী