শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সোচ্চার
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সোচ্চার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে তাঁর পোশাক ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অপমানজনক মন্তব্য করার যে অভিযোগ উঠেছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সোচ্চার—টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ শিক্ষিকার কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের কাছে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোচ্চার মনে করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে হবে এমন একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী বৈষম্য, অপমান, ভয়ভীতি ও হয়রানির আশঙ্কা ছাড়াই জ্ঞানচর্চা করতে পারবেন। কোনো শিক্ষার্থীর পোশাক, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা ব্যক্তিগত পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাঁকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করা বা সহপাঠীদের সামনে হেয় করা হলে তা তাঁর মর্যাদা, মানসিক নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পেশাগত দায়িত্বশীলতা ও নৈতিক আচরণের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অর্থ শিক্ষার্থীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা নয়; বরং তাঁর প্রশ্ন, মতামত, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করা। শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থী অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে বা সহপাঠীর পক্ষে কথা বলতে চাইলে তাঁকে ভয় দেখানো কিংবা অপমান করার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
সোচ্চার স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, কোনো নির্দিষ্ট পোশাক বা ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকলেও তার ভিত্তিতে কাউকে হেয় করা, পূর্বধারণার বশবর্তী হয়ে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সোচ্চারের দাবি ও সুপারিশ:
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. তদন্ত চলাকালে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
৩. ধর্মীয় পরিচয় ও পোশাকভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন।
৪. শিক্ষকদের মানবাধিকার, পেশাগত নৈতিকতা ও বৈষম্য প্রতিরোধ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান।
৫. শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
সোচ্চার মনে করে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে উপেক্ষা না করে এর প্রতিরোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী যেন তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের কারণে অপমানিত, ভীত কিংবা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় না থাকেন, তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।
বার্তাপ্রেরক:
শফিকুল ইসলাম মাহফুজ
মিডিয়া ও পাবলিকেশন ডিরেক্টর, সোচ্চার : Torture WatchDog Bangladesh
Email: [email protected]