ববি, ইবি ও শাবিপ্রবিতে র্যাগিং: দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থার দাবি সোচ্চারের
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগ : দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি সোচ্চারের
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিং, হয়রানি, মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং যৌন হয়রানিমূলক ও অপমানজনক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে সোচ্চার – Torture WatchDog Bangladesh।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম ব্যাচের ২৮ জন নবীন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন নির্মাণাধীন নভোথিয়েটারে নিয়ে ১৪তম ব্যাচের ১২ জন শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, চলাফেরায় বাধা, লাইব্রেরি ও ক্যাফেটেরিয়ায় যাওয়া নিষেধ করা এবং পোশাক নির্ধারণ করে দেওয়ার মতো আচরণের অভিযোগও রয়েছে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে এবং পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়।
অন্যদিকে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানো’ ও ‘পরিচয়পর্ব’-এর নামে দীর্ঘসময় আটকে রাখা, মানসিকভাবে হেনস্তা করা, অশালীন আচরণে বাধ্য করা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ ও প্রচার, শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা এবং একজন নারী শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও, শাবিপ্রবিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের চারজন শিক্ষার্থীকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে র্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিভিন্ন ধরনের নাচ ও কান্নার অভিনয় করতে বাধ্য করা হয় এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতা ও অশালীন শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিনয় করানো হয়। একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন এবং এখনো সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
সোচ্চার মনে করে, ‘ম্যানার শেখানো’, ‘পরিচয়পর্ব’ বা ‘সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক’- এর কোনো অজুহাতেই একজন শিক্ষার্থীকে অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন এবং ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা গ্রহণযোগ্য নয়। র্যাগিং শিক্ষার্থীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি আঘাত করে এবং একটি নিরাপদ ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সোচ্চারের পক্ষ থেকে দাবি:
১. অভিযোগের নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. প্রতিটি বিভাগ ও আবাসিক হলে র্যাগিংবিরোধী নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ‘ম্যানার শেখানো’, ‘পরিচয়পর্ব’ বা অন্য কোনো নামে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক, মানসিক, যৌন, সামাজিক বা ডিজিটাল হয়রানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
৫. নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন এবং নিরাপদ রিপোর্টিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
সোচ্চার বিশ্বাস করে, র্যাগিং কোনোভাবেই শিক্ষার্থীদের ‘শেখানোর’, ‘শৃঙ্খলিত করার’ বা ‘সম্পর্ক তৈরির’ বৈধ পদ্ধতি নয়। বরং এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, নিপীড়ন এবং মানবাধিকারের লঙ্ঘনের একটি রূপ। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, স্বাধীন চিন্তা, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার স্থান—ভয়, অপমান ও নির্যাতনের নয়।
বার্তাপ্রেরক:
শফিকুল ইসলাম মাহফুজ
মিডিয়া ও পাবলিকেশন ডিরেক্টর, সোচ্চার : Torture WatchDog Bangladesh
Email: [email protected]